দিওয়ানে ওয়াইসী (বঙ্গানুবাদ)

 SDSbook4

 

রাসূলনোমা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী রাঃ ফারসী ভাষায় ‘দিওয়ানে ওয়াইসী’ নামে নবী সাঃকে নিবেদিত অতি উচ্চাঙ্গের একটি মৌলিক ও অমর মহা-কাব্য গ্রন্থ রচনা করেন। তা অতীব মধুর প্রেম পূর্ণ, ঝংকার সম্পন্ন, আধ্যাত্মিক লহরীময় সুরহত কাব্যগ্রন্থ। এর প্রতিটি পংক্তি অতীব উচ্চস্তরের ভাব তরঙ্গে পরিপূর্ণ। পরম পবিত্র মহিমাময় আল্লাহ তায়ালা, হযরত রাসূল করীম সাঃ, আহলে বাইত রাঃ ও হযরত গাউসুল আজম রাঃ এর অসীম প্রেম প্লাবনে প্রতিটি ছত্র সতত দুকূল প্লাবিত। এর প্রত্যেকটি শব্দ তাসাউফের জ্বলন্ত ফয়েজে ভরপুর। এক একটি গজল ও কাসিদা যেন ইশকের বহ্নি-কুসুম। তাসাউফের পথের প্রতিটি পথিকের তা অবশ্য পঠিতব্য।

রাসূলনোমা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী রাঃ এর পিতৃ প্রদত্ত নাম-“ফতেহ আলী’ আর কবি নাম ছিল ‘ওয়াইসী’। এই জন্য স্ব-রচিত কাব্য গ্রন্থটির নাম তিনি ‘দিওয়ানে ওয়াইসী’ রেখে গিয়েছেন।

আওলাদে রাসূল সাঃ হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী রাঃ কখনও পারস্যের মহা-কবিদের অনুসরণে-অনুকরণে, আবার কখনও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ফারসী ভাষায় পবিত্র দিওয়ানে ওয়াইসী রচনা করেছেন। তাঁর রচিত দিওয়ানে ওয়াইসী মূলতঃ তিনটি বিষয়ে বিভক্ত :

১. তিনি কাসিদার মাধ্যমে নবী করীম সাঃ এর শান-মান তুলে ধরেছেন এবং তাঁকে প্রেম নিবেদন করেছেন। রাসূল পাক সাঃ এর শানে তিনি ১৭৯টি গজল এবং ২৩টি কাসিদা লিপিবদ্ধ করেছেন। প্রতিটি গজল-কাসিদা তাঁর সুগভীর রাসূল প্রেমের পরিচয় তুলে ধরে। একই সঙ্গে তা তরিকতের পথিকদের নতুন ভাবে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর পথে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তাঁর গজল-কাসিদায় যেই ভাবে নবী প্রেমের বর্ণনা করা হয়েছে তা সত্যিই অভাবনীয়-অকল্পনীয়। তাঁর সেই প্রেমকে নিজেই পাগলামীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যা আশেককুল সর্ব সাধারণকে পাগল করে দেয়।

২. হযরত ওয়াইসী পাক রাঃ হযরত বড়পীর রাঃ এর অতি বড় প্রেমিক ছিলেন। তিনি তাঁকে অতি সম্মান ও মহব্বত করতেন। এই সকল কাসিদায় শান-মান ও ভালবাসার তা বর্ণনা করেছেন।

৩. নিজের বিশিষ্ট মুরিদ-খলিফাগণের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। হযরত ওয়াইসী কেবলা তাঁর পঁয়ত্রিশ জন মুরিদ-খলিফার নাম-ঠিকানা এই কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তা ছাড়া স্বীয় পীর-মোর্শেদের পুত্র-কন্যাগণের উচ্চ মর্যাদার বর্ণনা করেছেন। পীর-মোর্শেদ কেবলার আওলাদগণ সম্পর্কে এত উচ্চ ধারণা তিনি রাখতেন, যা সকল তরিকতপন্থীর জন্য শিক্ষা করা অতি আবশ্যক।

অবশ্য প্রাসঙ্গিক ভাবে তিনি দিওয়ানে ওয়াইসী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাত তরিকার ফয়েজ-নিসবত প্রাপ্ত। সেই সাত তরিকা হচ্ছে- কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, ওয়াইসিয়া ও মাসুমিয়া। এই তরিকা গুলোতে নিজ মুরিদ-খলিফাদের খেলাফত দান করে পীর-মোর্শেদের মর্যাদা দান করেছেন। অবশ্য তিনি দিওয়ানে ওয়াইসীতে চার তরিকার শাজারা শরীফ উল্লেখ করেছেন।